আন্তর্জাতিক মানের অরবিস (ORBIS) প্রশিক্ষ প্রাপ্ত চক্ষু সার্জন
আন্তর্জাতিক মানের ORBIS প্রশিক্ষিত চক্ষু সার্জন বলতে বোঝানো হয় সেইসব চিকিৎসককে যারা বিশ্বখ্যাত ORBIS ইন্টারন্যাশনালের অধীনে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এই…
Read MoreWritten by
Dr. Md. Salahuddin Rahmatullah Shaheenডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি একটি নীরব জটিলতা; অনেক সময় রোগী বুঝতেই পারেন না যে দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসের কারণে চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দৃষ্টি তখনই বিপদে পড়ে যখন রেটিনার রক্তনালি থেকে রক্তক্ষরণ হয় বা ম্যাকুলা ফুলে যায়। এই রোগের চিকিৎসা নিয়ে ধারণা থাকলে রোগী ও তাঁর পরিবার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির চিকিৎসার অর্থ হলো রোগের গতি ধীর করা, বিদ্যমান দৃষ্টি ধরে রাখা এবং অন্ধত্ব ঠেকানো। চিকিৎসা পদ্ধতি ও খরচ জানার পাশাপাশি রোগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। চিকিৎসার আগে রোগ সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে ডাঃ মোঃ সালাহউদ্দিন রাহমাতুল্লাহর ক্লিনিক ওয়েবসাইট দেখতে পারেন।
রেটিনা হলো চোখের ভেতরের আলো-সংবেদনশীল পর্দা; এখানেই ছবি তৈরি হয়ে মস্তিষ্কে চলে যায়। রক্তে শর্করা দীর্ঘদিন বেশি থাকলে রেটিনার ক্ষুদ্র রক্তনালিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে রক্তনালির দেওয়াল ফুলে যাওয়া, ছোট ছোট রক্তক্ষরণ এবং তরল জমার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
অনেক সময় অক্সিজেনের অভাবে রেটিনায় অস্বাভাবিক নতুন রক্তনালি তৈরি হয়। এই নতুন রক্তনালিগুলো অত্যন্ত ভঙ্গুর; সামান্য চাপেই রক্তক্ষরণ করে। রক্তক্ষরণ বেশি হলে চোখের ভেতরের জেলির মতো অংশ (ভিট্রিয়াস) রক্তে ভরে যায়, দৃষ্টি হঠাৎ কমে যায় বা পুরোপুরি ঢেকে যায়।
দীর্ঘমেয়াদি ডায়াবেটিস, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে না থাকা, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি রোগ, গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস এবং ধূমপান—এই কারণগুলো রেটিনোপ্যাথির ঝুঁকি বাড়ায়। তবে প্রথম দিকে কোনো লক্ষণই থাকে না, তাই শুধু চোখে সমস্যা হলেই পরীক্ষা করালে চলবে না।
কিছু লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা করা চলবে না:
সরাসরি সাক্ষাৎ করার আগে চেম্বারের সময় ও ঠিকানা জেনে নিন।
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথিকে সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা হয়: প্রয়োজনে Dr. Md. Salahuddin Rahmatullah-এর সাথে যোগাযোগ করুন।
কোন পর্যায়ে আছে তা দেখেই চিকিৎসার ধরন ঠিক করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে শুধু রক্তে শর্করা, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত চোখ পরীক্ষা যথেষ্ট হতে পারে। মাঝারি বা উন্নত পর্যায়ে লেজার, ইনজেকশন বা অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়।
রেটিনার ক্ষতির ধরন ও মাত্রা অনুযায়ী চিকিৎসা বেছে নেওয়া হয়।
স্টেরয়েড ইমপ্লান্ট কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়, বিশেষ করে যাঁদের অ্যান্টি-ভিইজিএফ ইনজেকশন কাজ করে না বা করা যায় না। প্রতিটি পদ্ধতিরই কিছু ঝুঁকি আছে—সংক্রমণ, চোখে চাপ বেড়ে যাওয়া, ছানি দ্রুত হওয়া ইত্যাদি—তবে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে জটিলতা অনেক কম।
রেটিনোপ্যাথির চিকিৎসা এক নয়; রোগীর বয়স, ডায়াবেটিসের ইতিহাস, কিডনির অবস্থা ও চোখের পরীক্ষার ফল মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ। এসব বিষয়ে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ডাঃ মোঃ সালাহউদ্দিন রাহমাতুল্লাহ রোগীর জন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা তৈরি করে থাকেন।
বাংলাদেশে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির চিকিৎসার খরচ নির্ভর করে হাসপাতালের ধরন, চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা, ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও উপকরণ, অ্যানেসথেসিয়া এবং রোগীর অবস্থার জটিলতার ওপর। সরকারি হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা খরচ তুলনামূলক কম; বেসরকারি হাসপাতালে সুবিধা ও সেবার মান অনুযায়ী খরচ বেশি। প্রয়োজনে চেম্বারের সময় ও ঠিকানা।
বেসরকারি হাসপাতালের আনুমানিক খরচের একটি ধারণা নিচের ছকে দেওয়া হলো:
| চিকিৎসা পদ্ধতি | আনুমানিক খরচ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| লেজার ফটোকোয়াগুলেশন | ৳ ৫,০০০–১৫,০০০ (প্রতি সেশন) | অনেক সময় একাধিক সেশনের প্রয়োজন হয়। |
| অ্যান্টি-ভিইজিএফ ইনজেকশন | ৳ ৮,০০০–২৫,০০০ (প্রতি ডোজ) | কত ডোজ লাগবে তা চিকিৎসক নির্ধারণ করেন। |
| ভিট্রেক্টমি সার্জারি | ৳ ৫০,০০০–১,৫০,০০০ (প্রতি চোখ) | সার্জনের ফি, হাসপাতালের ক্যাটাগরি ও জটিলতার ওপর খরচ নির্ভর করে। |
এই খরচ শুধু আনুমানিক; সময় এবং প্রতিষ্ঠানভেদে পরিবর্তিত হয়। কিছু ক্ষেত্রে ভর্তি ফি, চোখের বিশেষ পরীক্ষা (যেমন OCT), অ্যানেসথেসিয়া এবং ওষুধ আলাদাভাবে যোগ হয়। সরকারি হাসপাতালে খরচ অনেক কম, তবে অপেক্ষার সময় দীর্ঘ হতে পারে। চিকিৎসা শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বর্তমান খরচ জেনে নেওয়া সবচেয়ে ভালো।
চিকিৎসার আগে: চোখের সম্পূর্ণ পরীক্ষা—দৃষ্টিশক্তি, ডাইলেটেড ফান্ডাস, প্রয়োজনে OCT এবং ফ্লুরোসেন অ্যাঞ্জিওগ্রাফি—করা হয়। চিকিৎসক রোগীর বর্তমান ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, রক্তচাপ ও কিডনির অবস্থা দেখে ঝুঁকি মূল্যায়ন করেন। কোন ওষুধ বন্ধ বা চালিয়ে যেতে হবে, তা শুধু চিকিৎসকই বলবেন; নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করা ঠিক নয়।
চিকিৎসার দিন: ভিট্রেক্টমি অস্ত্রোপচার হলে সাধারণত স্থানীয় বা সাধারণ অ্যানেসথেসিয়ার প্রয়োজন হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আগের রাতে বা সকালে কিছু খাওয়ার নিয়ম থাকে; তা ফলো করুন।
অপারেশনের পর: লেজার বা ইনজেকশনের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রোগী বাড়ি যেতে পারেন; তবে দৃষ্টি ঝাপসা থাকতে পারে, তাই একা গাড়ি না চালানোই ভালো। ভিট্রেক্টমির পর চোখে ড্রপ, গ্যাস বা তেল দেওয়া হলে চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে; মুখ নিচু করে রাখা, নির্দিষ্ট ঘুমের ভঙ্গি, ভারী জিনিস না তোলা—এসব নিয়ম কয়েক সপ্তাহ মানতে হয়।
ফলো-আপ: চিকিৎসা শেষে নিয়মিত ফলো-আপ বাধ্যতামূলক। রেটিনায় ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী প্রতি ৩–৬ মাসে ফান্ডাস পরীক্ষা করাতে হবে। ডায়াবেটিস, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে না থাকলে চিকিৎসার ফলও ভালো হয় না; তাই ওষুধ ও খাদ্যাভ্যাসের নিয়ম মেনে চলা অপরিহার্য। মনে রাখতে হবে, চিকিৎসা পুরোনো দৃষ্টি ফিরিয়ে দেয় না, তবে বিদ্যমান দৃষ্টি রক্ষা করতে পারে।
নিচের লক্ষণগুলোর যেকোনো একটি দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে:
এই লক্ষণগুলো রেটিনায় রক্তক্ষরণ বা রেটিনা বিচ্ছিন্ন হওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে। দেরি করলে অন্ধত্ব পর্যন্ত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে Dr. Md. Salahuddin Rahmatullah-এর সাথে যোগাযোগ করুন।
ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর প্রথমবার চোখ পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টাইপ ২ ডায়াবেটিস ধরা পড়লে যত দ্রুত সম্ভব এবং টাইপ ১ ডায়াবেটিসে রোগ ধরা পড়ার ৫ বছরের মধ্যে ফান্ডাস পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে অন্তত বছরে একবার, আর রেটিনোপ্যাথি ধরা পড়লে ৩–৬ মাসে অন্তত একবার পরীক্ষা করানো উচিত।
নিয়মিত চেকআপের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস আছে এমন রোগীকে রক্তচাপ ও কিডনির পরীক্ষাও করাতে হবে। চিকিৎসার সঠিক সময় নিশ্চিত করতে ডাঃ মোঃ সালাহউদ্দিন রাহমাতুল্লাহর পরামর্শ নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
না, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি পুরোপুরি সারানো সম্ভব নয়। তবে সঠিক চিকিৎসা ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখলে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো রোগের অগ্রগতি ধীর করা এবং বিদ্যমান দৃষ্টি সংরক্ষণ করা।
হ্যাঁ, চিকিৎসার পরও যদি রক্তে শর্করা, রক্তচাপ বা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তাহলে নতুন করে রেটিনায় রক্তক্ষরণ বা ফোলা দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসার পরও নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করানো এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
লেজার চিকিৎসা সাধারণত তেমন ব্যথাদায়ক নয়। চোখে অসাড় করার ড্রপ দেওয়া হয়, ফলে সামান্য ঝিঁঝিঁ বা চাপ অনুভূত হতে পারে। পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুত শেষ হয় এবং অধিকাংশ রোগীই ভালোভাবে সহ্য করতে পারেন।
সব ক্ষেত্রে নয়। লেজার বা ইন্ট্রাভিট্রিয়াল ইনজেকশনের মতো চিকিৎসা সাধারণত ওপিডি (আউটডোর) ভিত্তিতে করা হয়। তবে ভিট্রেক্টমি (চোখের ভেতরের রক্ত জমাট অপসারণ) জটিল হলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসক পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেবেন।
হ্যাঁ, গর্ভাবস্থায়ও চিকিৎসা করা যায়, তবে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বা আগে থেকে থাকা ডায়াবেটিস রেটিনোপ্যাথিকে দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই গর্ভবতী নারীদের নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনে লেজার বা ইনজেকশন নেওয়া নিরাপদ।
Stay updated with ophthalmology tips, eye care guides, treatment updates, and insights on cataract, glaucoma, pediatric eye health, and squint care.
আন্তর্জাতিক মানের ORBIS প্রশিক্ষিত চক্ষু সার্জন বলতে বোঝানো হয় সেইসব চিকিৎসককে যারা বিশ্বখ্যাত ORBIS ইন্টারন্যাশনালের অধীনে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এই…
Read More
শিশুদের চোখের বিভিন্ন রোগ ও দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষার উপায় নিয়ে এই নিবন্ধে আলোচনা করা হয়েছে। জন্ম থেকে ৮-১০ বছর বয়স পর্যন্ত…
Read More
খুলনায় ফ্যাকো ও লেজার পদ্ধতিতে ছানি অপারেশন নিয়ে বিস্তারিত—পার্থক্য, খরচ, প্রস্তুতি ও সঠিক চিকিৎসক নির্বাচনের টিপস।
Read More
খুলনায় সেরা শিশু চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও স্ট্রাবিসমাস বা বাঁকা চোখের ডাক্তার খুঁজতে গিয়ে কী কী বিষয় খেয়াল রাখবেন, স্ট্রাবিসমাসের চিকিৎসার…
Read More
চোখ ট্যারা হওয়া (স্ট্রাবিসমাস) শুধু দেখতে খারাপ লাগার বিষয় নয়, এটি দৃষ্টিশক্তির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে শিশুদের স্থায়ী…
Read More
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি একটি নীরব জটিলতা যা দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত করে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে দৃষ্টি…
Read More