শিশুদের চোখের বিভিন্ন রোগ ও দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষার উপায়

Updated on: Saturday, August 15, 2026

আপনার সন্তান কি টিভি বা মোবাইলের স্ক্রিনের খুব কাছে বসে দেখে? নাকি পড়ার সময় চোখ কচলায়? এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো প্রায়ই বাবা-মায়েরা এড়িয়ে যান, কিন্তু এগুলো শিশুর চোখের সমস্যার প্রথম ইঙ্গিত হতে পারে। শিশুদের দৃষ্টিশক্তি প্রাপ্তবয়স্কদের মতো নয়—জন্মের পর থেকে ৮-১০ বছর বয়স পর্যন্ত দৃষ্টি বিকশিত হতে থাকে। এই সময়ে কোনো সমস্যা শনাক্ত করা গেলে অনেক রোগই পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য। অন্যদিকে, দেরি করলে দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে কমে যেতে পারে। এই নিবন্ধে আমরা বাংলাদেশি অভিভাবকদের জন্য শিশুদের চোখের সাধারণ রোগ, লক্ষণ ও দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষার কার্যকর উপায় নিয়ে আলোচনা করব। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসক ডাঃ মোঃ সালাহউদ্দিন রহমতুল্লাহ-এর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

শিশুদের চোখের রোগ: কেন তাড়াতাড়ি শনাক্ত করা জরুরি

শিশুর দৃষ্টি বিকাশের প্রক্রিয়া জন্মের পর শুরু হয় এবং প্রায় ৮-১০ বছর বয়স পর্যন্ত চলতে থাকে। এই সময়ে চোখের কোনো সমস্যা যেমন অলস চোখ (অ্যাম্বলিওপিয়া) বা টেরা চোখ (স্ট্র্যাবিসমাস) থাকলে, তা দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা না করলে মস্তিষ্ক স্থায়ীভাবে সেই চোখ থেকে সংকেত গ্রহণ করা বন্ধ করে দিতে পারে। ফলে পরবর্তী বয়সে চশমা বা অস্ত্রোপচার দিয়েও দৃষ্টি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় না। তাই শিশুর বয়স ৩ বছর হওয়ার আগেই অন্তত একবার পূর্ণাঙ্গ চোখ পরীক্ষা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে অনেক অভিভাবক মনে করেন শিশুর চোখের সমস্যা বড় হলে নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যাবে—এই ধারণা ভুল। বরং শুরুতেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শিশুদের চোখের সাধারণ রোগ: লক্ষণ, কারণ ও করণীয়

বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে বেশ কিছু চোখের রোগ সাধারণত দেখা যায়। নিচের সারণিতে এগুলোর লক্ষণ ও জরুরি পরামর্শ দেওয়া হলো:

রোগ/সমস্যা প্রধান লক্ষণ কখন দেরি না করে ডাক্তার দেখাবেন
রিফ্র্যাক্টিভ ত্রুটি (মায়োপিয়া, হাইপারোপিয়া, অ্যাস্টিগম্যাটিজম) দূরের জিনিস ঝাপসা দেখা, বই খুব কাছে নিয়ে পড়া, মাথা ব্যথা যদি শিশু পড়তে অসুবিধা করে বা স্কুলে ব্ল্যাকবোর্ড দেখতে না পারে
অলস চোখ (অ্যাম্বলিওপিয়া) এক চোখ দিয়ে ভালো না দেখা, চোখ ঘুরে যাওয়া, গভীরতা বোঝার সমস্যা যেকোনো বয়সে শনাক্ত হলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
টেরা চোখ (স্ট্র্যাবিসমাস) চোখ দুটি একসাথে না সরা, এক চোখ ভেতরে বা বাইরে ঘুরে থাকা জন্মের পর ৪ মাসের বেশি সময় ধরে চোখ ঘুরে থাকলে
চোখ ওঠা (কনজাংটিভাইটিস) চোখ লাল হওয়া, চুলকানি, পিচুটি জমা, আলোতে অস্বস্তি চোখ লাল হলে ও পিচুটি জমলে; বিশেষ করে যদি জ্বর বা চোখে ব্যথা থাকে
ব্লেফারাইটিস চোখের পাতার প্রান্ত লাল ও ফোলা, চোখ জ্বালা করা, পিচুটি জমা ঘরোয়া পরিষ্কারের পরেও উপশম না হলে
ড্যাক্রাইওসিস্টাইটিস (চোখের নালি বন্ধ) জন্মের পর থেকেই এক চোখ দিয়ে পানি পড়া, পিচুটি জমা ৬ মাস বয়সের পরেও সমস্যা থাকলে
রেটিনোব্লাস্টোমা (চোখের ক্যান্সার) চোখের মণিতে সাদা ছাপ (ছবিতে লাল চোখের পরিবর্তে সাদা দেখা), চোখ ঘুরে যাওয়া যেকোনো বয়সে এই লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন

অলস চোখ (অ্যাম্বলিওপিয়া) ও টেরা চোখ (স্ট্র্যাবিসমাস)

অলস চোখ এবং টেরা চোখ—এই দুটি সমস্যা প্রায়ই একসাথে দেখা দেয়। অলস চোখে মস্তিষ্ক একটি চোখ থেকে আসা সংকেত উপেক্ষা করে, ফলে ওই চোখের দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে কমে যায়। টেরা চোখে চোখের পেশির ভারসাম্যহীনতার কারণে চোখ দুটি একই দিকে তাকাতে পারে না। এই সমস্যাগুলো শৈশবেই শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা (যেমন প্যাচ থেরাপি, চশমা বা অস্ত্রোপচার) দিয়ে দৃষ্টি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার সাফল্যের হার কমে যায়। তাই শিশুর ৩ বছর বয়সের আগেই চোখ পরীক্ষা করানো জরুরি।

চোখ ওঠা (কনজাংটিভাইটিস), চোখের নালি বন্ধ ও সংক্রমণ

চোখ ওঠা বা কনজাংটিভাইটিস শিশুদের মধ্যে খুব সাধারণ। এটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা অ্যালার্জির কারণে হতে পারে। লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে চোখ লাল হওয়া, চুলকানি, পিচুটি জমা ও আলোতে অস্বস্তি। ঘরোয়া সতর্কতা হিসেবে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে চোখ মুছে দেওয়া এবং শিশুকে চোখ ঘষতে না দেওয়া জরুরি। তবে চোখ লাল হলে ও পিচুটি জমলে, বিশেষ করে যদি জ্বর বা চোখে ব্যথা থাকে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, চোখের নালি বন্ধ (ড্যাক্রাইওসিস্টাইটিস) সাধারণত জন্মগত, যাতে শিশুর চোখ দিয়ে পানি পড়ে ও পিচুটি জমে। ৬ মাস বয়সের পরেও সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। প্রয়োজনে Dr. Md. Salahuddin Rahmatullah-এর সাথে যোগাযোগ করুন

দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা: কোন বয়সে, কখন করাতে হবে?

শিশুর বয়স অনুযায়ী চোখ পরীক্ষার একটি ব্যবহারিক সময়সূচি নিচের সারণিতে দেওয়া হলো:

বয়স পর্যবেক্ষণযোগ্য বিষয় প্রস্তাবিত কার্যক্রম
জন্মের পর চোখের গঠন, আলোতে প্রতিক্রিয়া নবজাতকের চোখ পরীক্ষা (রেড রিফ্লেক্স টেস্ট)
৬ মাস চোখ নড়াচড়া, বস্তু অনুসরণ শিশু বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে সাধারণ চোখ পরীক্ষা
১ বছর চোখের সারিবদ্ধতা, দূরের জিনিস দেখা চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা
৩ বছর দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা (চার্ট ব্যবহার করে) স্কুলে ভর্তির আগে বাধ্যতামূলক চোখ পরীক্ষা
৫ বছর ও তার পর প্রতি ১-২ বছর অন্তর নিয়মিত পরীক্ষা স্কুলের চোখ পরীক্ষা বা কমিউনিটি ক্লিনিকে পরীক্ষা

বাংলাদেশে অনেক স্কুলে বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। অভিভাবকরা এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন। তবে কোনো লক্ষণ দেখা দিলে নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে Dr. Md. Salahuddin Rahmatullah-এর সাথে যোগাযোগ করুন।

ঘরে বসে দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষার কার্যকর অভ্যাস

শিশুর দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় ঘরে বসে কিছু সহজ অভ্যাস অনুসরণ করা যায়: প্রয়োজনে চেম্বারের সময় ও ঠিকানা

  • স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ: ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য স্ক্রিন টাইম এড়িয়ে চলা ভালো। ২-৫ বছর বয়সীদের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা স্ক্রিন টাইম নির্ধারণ করুন। স্ক্রিন ব্যবহারের সময় ২০-২০-২০ নিয়ম (প্রতি ২০ মিনিটে ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরে তাকানো) অনুসরণ করতে উৎসাহিত করুন।
  • পর্যাপ্ত আলো: পড়ার সময় ঘরে পর্যাপ্ত আলো থাকতে হবে। সরাসরি আলো যাতে চোখে না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
  • পুষ্টিকর খাবার: ভিটামিন এ-সমৃদ্ধ খাবার (গাজর, মিষ্টি কুমড়া, শাক, ডিম) ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (মাছ, বাদাম) দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় সহায়ক।
  • সানগ্লাস ব্যবহার: রোদে বের হওয়ার সময় শিশুকে সানগ্লাস পরাতে উৎসাহিত করুন, যা অতিবেগুনি রশ্মি থেকে চোখ রক্ষা করে।
  • নিরাপদ খেলাধুলা: চোখে আঘাত লাগতে পারে এমন খেলাধুলা (যেমন ক্রিকেট, ফুটবল) করার সময় প্রতিরক্ষামূলক চশমা ব্যবহার করা উচিত।

কখন বুঝবেন শিশুর জরুরি চোখের চিকিৎসা দরকার?

শিশুর নিচের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:

  • চোখ বাঁকা দেখা (এক চোখ ভেতরে বা বাইরে ঘুরে থাকা)
  • চোখের মণিতে সাদা ছাপ দেখা (ছবিতে লাল চোখের পরিবর্তে সাদা দেখা)
  • হঠাৎ চোখ লাল হয়ে যাওয়া ও ব্যথা হওয়া
  • চোখ ফুলে যাওয়া বা চোখের পাতা ফোলা
  • আলোতে অস্বস্তি বা চোখ বন্ধ করে রাখা
  • বারবার চোখ ঘষা, মাথা ব্যথা বা পড়তে অসুবিধা
  • চোখ দিয়ে পানি পড়া বা পিচুটি জমা

এই লক্ষণগুলো উপেক্ষা করলে স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। ঘরোয়া টোটকা বা কাজল-সুরমা ব্যবহার না করে সরাসরি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। প্রয়োজনে Dr. Md. Salahuddin Rahmatullah-এর সাথে যোগাযোগ করুন।

বাংলাদেশে শিশু চোখের চিকিৎসা: নিরাপদ পথ ও সতর্কতা

বাংলাদেশে অনেক অভিভাবক শিশুর চোখের সমস্যায় প্রথমে ঘরোয়া পদ্ধতি বা কাজল-সুরমা ব্যবহার করেন, যা বিপজ্জনক হতে পারে। চোখের সংক্রমণ বা আঘাতের ক্ষেত্রে কাজল বা সুরমা চোখে দিলে সংক্রমণ আরও বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া, মেডিকেল স্টোর থেকে নিজে থেকে চশমা বা চোখের ড্রপ কিনে দেওয়া উচিত নয়। শিশুর চোখের সমস্যা শনাক্ত করতে এবং সঠিক চিকিৎসা নিতে অবশ্যই চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। খুলনা ও রংপুর অঞ্চলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে Dr. Md. Salahuddin Rahmatullah-এর সাথে যোগাযোগ করুন। এছাড়া, চেম্বারের সময় ও ঠিকানা জেনে সরাসরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারেন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

শিশুর চোখে কোনো সমস্যা না থাকলেও কি নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো উচিত?

হ্যাঁ, একান্তই করানো উচিত। জন্মের পরপরই, ৬ মাস বয়সে, ৩ বছর বয়সে এবং স্কুলে ভর্তির আগে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করানো দরকার। অনেক শিশুর চোখের সমস্যা (যেমন অলস চোখ বা অ্যাম্বলিওপিয়া) বাইরে থেকে বোঝা যায় না, কারণ শিশুটি নিজেও বুঝতে পারে না যে তার দৃষ্টি কম। শুধুমাত্র নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমেই এই ধরনের সমস্যা শুরুর দিকে ধরা পড়ে এবং চিকিৎসা সম্ভব হয়। বড় বেলায় ধরা পড়লে স্থায়ী দৃষ্টিহানি হতে পারে।

মোবাইল বা ট্যাবের স্ক্রিন কি শিশুর চোখের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে?

এখন পর্যন্ত এমন কোনো গবেষণা নেই যে সরাসরি স্ক্রিনের আলো শিশুর চোখের স্থায়ী ক্ষতি করে। তবে দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখ শুকিয়ে যায়, চোখে চাপ পড়ে (ডিজিটাল আই স্ট্রেন), মাথাব্যথা হতে পারে এবং দৃষ্টি ঝাপসা লাগতে পারে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্ক্রিনের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশুর দূরদৃষ্টি (মায়োপিয়া) বাড়িয়ে দিতে পারে, বিশেষ করে যদি শিশু প্রকৃতিতে কম সময় কাটায়। তাই ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের স্ক্রিন না দেওয়াই ভালো। তার বেশি বয়সে দিনে সর্বোচ্চ ১-২ ঘণ্টা স্ক্রিন সময় সীমিত রাখা এবং প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ ফুট দূরের কোনো জিনিস ২০ সেকেন্ড দেখার অভ্যাস (২০-২০-২০ নিয়ম) করানো জরুরি।

শিশুর চোখের নিচে কালি বা ফোলাভাব থাকলে কী চোখের রোগের লক্ষণ হতে পারে?

শিশুর চোখের নিচে কালি বা ফোলা সাধারণত চোখের রোগের সরাসরি লক্ষণ না। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি অ্যালার্জি (অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস), দীর্ঘমেয়াদি সাইনোসাইটিস বা পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবের কারণে হতে পারে। অ্যালার্জির কারণে চোখ চুলকায়, লাল হয় এবং পানির মতো স্রাব হয়। ঘন ঘন চোখ কচলালে নিচের ত্বক কালো হয়ে যেতে পারে। যদি শিশু ঘুমের পরও চোখ ফোলা থাকে বা চোখ লাল থাকে, তাহলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে অনেক ক্ষেত্রে এটি জিনগত বা স্বাভাবিক, তেমন হলে চিন্তার কারণ নেই।

শিশুর চোখ ওঠা (কনজাংটিভাইটিস) হলে কী করবেন? ঘরোয়া চিকিৎসা কি নিরাপদ?

শিশুর চোখ ওঠা হলে প্রথমেই ডাক্তার দেখানো উচিত, কারণ এটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা অ্যালার্জি—কোন কারণে হয়েছে তা বুঝতে হবে। ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে পরিষ্কার কাপড় ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে চোখের ওপর রাখা যেতে পারে (অ্যালার্জি বা ভাইরাল), অথবা গরম পানির সেঁক দেওয়া যেতে পারে (ব্যাকটেরিয়াল) — তবে এটি নিশ্চিত হওয়ার পরই। কখনোই চোখে কাঁচা দুধ, মায়ের দুধ, বা লেবুর রস দেওয়া উচিত নয়, এতে সংক্রমণ বাড়তে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া স্টেরয়েড বা অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ ব্যবহার করবেন না। সংক্রমণ ছড়াতে পারে বলে শিশুর চোখ ঘন ঘন পরিষ্কার করুন, পৃথক তোয়ালে ও বালিশ ব্যবহার করুন এবং শিশুকে চোখ কচলাতে নিষেধ করুন।

শিশুর চোখের পাপড়িতে বারবার খোসা উঠলে বা চোখের পাতা ফুলে গেলে কী করবেন?

এটি ব্লেফারাইটিস (চোখের পাতার প্রান্তের প্রদাহ) বা স্টাই (আঁচিল) হতে পারে। ব্লেফারাইটিস সাধারণত চোখের পাতার গ্রন্থি ব্লকেজ বা ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। এতে পাপড়ির গোড়ায় খুশকির মতো সাদা আঁশ জমে, চোখ লাল হয়, জ্বালা করে। ঘরোয়া যত্ন হিসেবে হালকা গরম পানিতে পরিষ্কার কাপড় ভিজিয়ে চোখের পাতায় ৫-১০ মিনিট সেঁক দিন, দিনে ২-৩ বার। এরপর ভেজা কাপড় বা তুলো দিয়ে পাপড়ির গোড়া আলতো করে মুছে দিন। শিশুর চোখের পাতা ফুলে, লাল হয়ে বা ব্যথা হলে, বা জ্বর থাকলে দ্রুত চক্ষু ডাক্তার দেখান। স্টাই হলে কখনোই চিপে ফেলার চেষ্টা করবেন না, এতে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

More Health Tips & Guides From Dr. Md. Salahuddin Rahmatullah Shaheen

Stay updated with ophthalmology tips, eye care guides, treatment updates, and insights on cataract, glaucoma, pediatric eye health, and squint care.

Dr. Md. Salahuddin Rahmatullah Shaheen – Eye Specialist and Phaco Surgeon in Khulna, Bangladesh

আন্তর্জাতিক মানের অরবিস (ORBIS) প্রশিক্ষ প্রাপ্ত চক্ষু সার্জন

আন্তর্জাতিক মানের ORBIS প্রশিক্ষিত চক্ষু সার্জন বলতে বোঝানো হয় সেইসব চিকিৎসককে যারা বিশ্বখ্যাত ORBIS ইন্টারন্যাশনালের অধীনে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এই…

Read More
Dr. Md. Salahuddin Rahmatullah Shaheen – Eye Specialist and Phaco Surgeon in Khulna, Bangladesh

খুলনায় সেরা শিশু চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও স্ট্রাবিসমাস বা বাঁকা চোখের ডাক্তার

খুলনায় সেরা শিশু চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও স্ট্রাবিসমাস বা বাঁকা চোখের ডাক্তার খুঁজতে গিয়ে কী কী বিষয় খেয়াল রাখবেন, স্ট্রাবিসমাসের চিকিৎসার…

Read More
Dr. Md. Salahuddin Rahmatullah Shaheen – Eye Specialist and Phaco Surgeon in Khulna, Bangladesh

চোখ ট্যারা হওয়া বা স্কুইন্ট আই সার্জারি

চোখ ট্যারা হওয়া (স্ট্রাবিসমাস) শুধু দেখতে খারাপ লাগার বিষয় নয়, এটি দৃষ্টিশক্তির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে শিশুদের স্থায়ী…

Read More
Dr. Md. Salahuddin Rahmatullah Shaheen – Eye Specialist and Phaco Surgeon in Khulna, Bangladesh

ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি চিকিৎসা

ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি একটি নীরব জটিলতা যা দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত করে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে দৃষ্টি…

Read More
WhatsApp Dr. Md. Salahuddin Rahmatullah Shaheen