আন্তর্জাতিক মানের অরবিস (ORBIS) প্রশিক্ষ প্রাপ্ত চক্ষু সার্জন
আন্তর্জাতিক মানের ORBIS প্রশিক্ষিত চক্ষু সার্জন বলতে বোঝানো হয় সেইসব চিকিৎসককে যারা বিশ্বখ্যাত ORBIS ইন্টারন্যাশনালের অধীনে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এই…
Read MoreWritten by
Dr. Md. Salahuddin Rahmatullah Shaheenঅনেকেই মনে করেন চোখ ট্যারা হওয়া শুধু দেখতে খারাপ লাগার একটি বিষয়। কিন্তু বাস্তবে এটি দৃষ্টিশক্তির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি সমস্যা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে স্ট্রাবিসমাস (Strabismus) বলা হয়। এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির দুটি চোখ একই বিন্দুতে ফোকাস করতে পারে না, ফলে একটি চোখ সোজা থাকলেও অন্যটি ভেতরে, বাইরে, উপরে বা নিচে সরে যায়।
শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়েরই এই সমস্যা হতে পারে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না নিলে শিশুদের ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে দৃষ্টি কমে যাওয়ার (অ্যাম্বলিওপিয়া বা আলস্য চোখ) ঝুঁকি থাকে। এই নিবন্ধে আমরা স্কুইন্ট আই সার্জারি, এর প্রয়োজনীয়তা, পদ্ধতি, ঝুঁকি ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
চোখ ট্যারা হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এগুলোকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
প্রকারভেদের দিক থেকে, চোখ ভেতরের দিকে সরে গেলে তাকে এসোট্রোপিয়া (Esotropia), বাইরের দিকে সরে গেলে এক্সোট্রোপিয়া (Exotropia), উপরের দিকে সরে গেলে হাইপারট্রোপিয়া (Hypertropia) এবং নিচের দিকে সরে গেলে হাইপোট্রোপিয়া (Hypotropia) বলা হয়।
অনেকেই ভাবেন চোখ ট্যারা হলেই অস্ত্রোপচার করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে, স্কুইন্ট আই সার্জারি সবসময় প্রথম পছন্দ নয়। চিকিৎসক প্রথমে অন্যান্য পদ্ধতি বিবেচনা করেন:
যখন এই পদ্ধতিগুলো কাজ করে না, বা চোখের পেশির গুরুতর ভারসাম্যহীনতা থাকে, তখনই সার্জারি বিবেচনা করা হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স ও দৃষ্টি উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই; প্রতিটি রোগীর জন্য পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হয়। প্রয়োজনে Dr. Md. Salahuddin Rahmatullah-এর সাথে যোগাযোগ করুন।
স্কুইন্ট আই সার্জারি একটি অপেক্ষাকৃত নিরাপদ অস্ত্রোপচার যা সাধারণত জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়া (পূর্ণ নিশ্চেতনতা) বা কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় অ্যানেস্থেশিয়ায় করা হয়। অপারেশনটি সাধারণত ১-২ ঘণ্টা সময় নেয়।
পদ্ধতিটি নিম্নরূপ:
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগী একই দিনে বাড়ি ফিরতে পারেন (ডে-কেয়ার সার্জারি)। তবে জটিল ক্ষেত্রে হাসপাতালে একদিন থাকার প্রয়োজন হতে পারে।
যেকোনো অস্ত্রোপচারের মতো স্কুইন্ট আই সার্জারিরও কিছু ঝুঁকি রয়েছে। এগুলো সম্পর্কে সৎভাবে জানা জরুরি: প্রয়োজনে চেম্বারের সময় ও ঠিকানা।
অভিজ্ঞ সার্জনের হাতে এই ঝুঁকিগুলো অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণযোগ্য। তবে কোনো সার্জারিই ১০০% ঝুঁকিমুক্ত নয়।
অপারেশনের পর চোখে লালভাব, ফোলা ও হালকা অস্বস্তি স্বাভাবিক। সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে এই উপসর্গগুলো কমে যায়।
দীর্ঘমেয়াদী ফলো-আপের মাধ্যমেই সার্জারির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা হয়।
বাংলাদেশে স্কুইন্ট আই সার্জারির খরচ হাসপাতালের ধরন, সার্জনের অভিজ্ঞতা, অ্যানেস্থেশিয়ার ধরন ও জটিলতার ওপর নির্ভর করে। নিচে একটি আনুমানিক খরচের তালিকা দেওয়া হলো:
| আইটেম | আনুমানিক খরচ (বিডিটি) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| সরকারি হাসপাতাল (যেমন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট) | ৫,০০০ – ১৫,০০০ টাকা | খরচ কম, তবে অপেক্ষার তালিকা দীর্ঘ হতে পারে এবং কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরে থেকে করতে হতে পারে। |
| বেসরকারি চক্ষু হাসপাতাল (সাধারণ ক্যাটাগরি) | ২০,০০০ – ৩৫,০০০ টাকা | সার্জনের ফি, হাসপাতালের ক্যাটাগরি ও অ্যানেস্থেশিয়ার খরচ অন্তর্ভুক্ত। |
| উচ্চমানের বেসরকারি হাসপাতাল | ৪০,০০০ – ৬০,০০০ টাকা বা তার বেশি | অভিজ্ঞ সার্জন, উন্নত প্রযুক্তি ও ব্যক্তিগত কক্ষের সুবিধা থাকলে খরচ বাড়তে পারে। |
| মনে রাখবেন: খরচ পরিবর্তনশীল। সরাসরি হাসপাতালে যোগাযোগ করে বর্তমান খরচ ও প্যাকেজ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া ভালো। | ||
সঠিক চিকিৎসা ও পরামর্শের জন্য Dr. Md. Salahuddin Rahmatullah-এর সাথে যোগাযোগ করুন।
হালকা স্কুইন্ট, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে, চশমা, প্রিজম লেন্স বা চোখের ব্যায়াম (অরথোপটিক্স) দিয়ে কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে এটি নির্ভর করে ট্যারা হওয়ার ধরন ও তীব্রতার ওপর। সাধারণত স্থায়ী সমাধানের জন্য সার্জারির প্রয়োজন হয়, কারণ পেশির ভারসাম্যহীনতা শুধু ব্যায়ামে পুরোপুরি ঠিক হয় না। একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞই বলে দিতে পারবেন কোন পদ্ধতি আপনার বা আপনার শিশুর জন্য উপযুক্ত।
শিশুর বয়স ও সমস্যার ধরনের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন। সাধারণত ৪-৬ বছর বয়সে দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি গঠিত হওয়ার পর সার্জারি করা হয়, তবে প্রয়োজনে তার আগেও করা হতে পারে (যেমন জন্মগত ট্যারা)। শিশুর চোখের পেশি ও দৃষ্টির বিকাশ বিবেচনা করে চিকিৎসক সবচেয়ে ভালো সময় নির্ধারণ করেন। তাই দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সার্জারির সময় রোগী সম্পূর্ণ অজ্ঞান থাকেন (জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়া হয়), তাই কোনো ব্যথা অনুভব হয় না। অস্ত্রোপচার শেষে চোখ কিছুটা ফোলা বা অস্বস্তি হতে পারে, যা চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ ও ঠান্ডা সেঁকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ব্যথা খুব বেশি হলে দ্রুত চিকিৎসককে জানানো উচিত। বাংলাদেশের অধিকাংশ হাসপাতালেই এই সার্জারি নিরাপদ অ্যানেস্থেশিয়ার অধীনে করা হয়।
হ্যাঁ, কিছু ক্ষেত্রে সার্জারির পর পুনরায় চোখ ট্যারা হতে পারে, বিশেষ করে যদি পেশির ভারসাম্যহীনতা পুরোপুরি না ঠেকে বা স্নায়বিক কারণ থাকে। তবে আধুনিক কৌশলে এই হার অনেক কম। নিয়মিত ফলো-আপ ও প্রয়োজনে অতিরিক্ত চিকিৎসা (যেমন চশমা, প্রিজম বা পুনরায় সার্জারি) পুনরাবৃত্তি রোধ করতে সাহায্য করে। চিকিৎসকের দেওয়া ফলো-আপ তালিকা মেনে চলা জরুরি।
সাধারণত ১-২ সপ্তাহের বিশ্রামের পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রথম ২-৩ দিন চোখ ফোলা ও লাল থাকতে পারে, তাই ভারী কাজ, পড়াশোনা ও স্ক্রিন টাইম এড়িয়ে চলা ভালো। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ১-২ সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক কাজে ফেরা যায়, তবে চোখে ধুলাবালি বা আঘাত এড়াতে সতর্ক থাকতে হবে। স্কুল বা অফিসে যাওয়ার আগে চিকিৎসকের অনুমতি নেওয়া নিরাপদ।
চোখ ট্যারা হওয়া শুধু সৌন্দর্যের সমস্যা নয়, এটি দৃষ্টিশক্তির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। স্কুইন্ট আই সার্জারি একটি কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি, তবে সবসময় প্রথম পছন্দ নয়। সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের জন্যই সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। দেরি করলে দৃষ্টি স্থায়ীভাবে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে Dr. Md. Salahuddin Rahmatullah-এর ক্লিনিক ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত জেনে নিন।
Stay updated with ophthalmology tips, eye care guides, treatment updates, and insights on cataract, glaucoma, pediatric eye health, and squint care.
আন্তর্জাতিক মানের ORBIS প্রশিক্ষিত চক্ষু সার্জন বলতে বোঝানো হয় সেইসব চিকিৎসককে যারা বিশ্বখ্যাত ORBIS ইন্টারন্যাশনালের অধীনে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এই…
Read More
শিশুদের চোখের বিভিন্ন রোগ ও দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষার উপায় নিয়ে এই নিবন্ধে আলোচনা করা হয়েছে। জন্ম থেকে ৮-১০ বছর বয়স পর্যন্ত…
Read More
খুলনায় ফ্যাকো ও লেজার পদ্ধতিতে ছানি অপারেশন নিয়ে বিস্তারিত—পার্থক্য, খরচ, প্রস্তুতি ও সঠিক চিকিৎসক নির্বাচনের টিপস।
Read More
খুলনায় সেরা শিশু চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও স্ট্রাবিসমাস বা বাঁকা চোখের ডাক্তার খুঁজতে গিয়ে কী কী বিষয় খেয়াল রাখবেন, স্ট্রাবিসমাসের চিকিৎসার…
Read More
চোখ ট্যারা হওয়া (স্ট্রাবিসমাস) শুধু দেখতে খারাপ লাগার বিষয় নয়, এটি দৃষ্টিশক্তির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে শিশুদের স্থায়ী…
Read More
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি একটি নীরব জটিলতা যা দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত করে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে দৃষ্টি…
Read More