আন্তর্জাতিক মানের অরবিস (ORBIS) প্রশিক্ষ প্রাপ্ত চক্ষু সার্জন
আন্তর্জাতিক মানের ORBIS প্রশিক্ষিত চক্ষু সার্জন বলতে বোঝানো হয় সেইসব চিকিৎসককে যারা বিশ্বখ্যাত ORBIS ইন্টারন্যাশনালের অধীনে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এই…
Read MoreWritten by
Dr. Md. Salahuddin Rahmatullah Shaheenছানি পড়া মানেই দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া—একটা সময়ে তা দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অনেকের ধারণা, চোখের ড্রপ বা ওষুধ দিয়ে ছানি সেরে যাবে, কিন্তু বাস্তবে একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা হলো অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ঘোলাটে লেন্সটি সরিয়ে কৃত্রিম লেন্স বসানো। এই প্রক্রিয়াটি এখন বাংলাদেশে অত্যন্ত নিরাপদ ও সহজলভ্য। নিচে বিস্তারিত জানানো হলো।
চোখের ভেতরের প্রাকৃতিক লেন্সটি স্বচ্ছ থাকে, যার মাধ্যমে আলো রেটিনায় পৌঁছে দৃষ্টি তৈরি হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই লেন্স ঘোলাটে হয়ে যায়—এটাই ছানি। ধীরে ধীরে দৃষ্টি কমে যায়, রাতে গাড়ি চালাতে অসুবিধা হয়, রং বিবর্ণ মনে হয় এবং চশমার পাওয়ার বারবার বদলাতে হয়।
ছানি পড়া লেন্সকে আর স্বচ্ছ করা সম্ভব নয়। তাই একমাত্র সমাধান হলো অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরনো লেন্সটি সরিয়ে একটি কৃত্রিম ইন্ট্রাওকুলার লেন্স (IOL) বসানো। এই অপারেশন দৃষ্টি ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে চশমার নির্ভরতাও কমিয়ে দেয়।
অপারেশনের আগে চক্ষু বিশেষজ্ঞ চোখের সম্পূর্ণ পরীক্ষা করেন—চোখের দৈর্ঘ্য মাপা, কর্নিয়ার বক্রতা দেখা এবং লেন্সের পাওয়ার নির্ধারণ করা। এছাড়া রোগীর ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে সেগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক Dr. Md. Salahuddin Rahmatullah এই প্রক্রিয়ায় রোগীকে সঠিকভাবে গাইড করতে পারেন।
অপারেশনের দিন সাধারণত খালি পেটে আসতে বলা হয় না, তবে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু ওষুধ বন্ধ রাখার প্রয়োজন হতে পারে। যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান, তাদের জন্য বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। অপারেশনের আগে চোখে এন্টিবায়োটিক ড্রপ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পদ্ধতি হলো ফ্যাকোইমালসিফিকেশন (Phacoemulsification)। এতে চোখের কর্নিয়ায় ২-৩ মিলিমিটারের ছোট ছিদ্র করে একটি আল্ট্রাসাউন্ড প্রোব ঢুকিয়ে ঘোলাটে লেন্সকে ভেঙে ফেলা হয় এবং শুষে নেওয়া হয়। তারপর সেই ছিদ্র দিয়েই ভাঁজ করা কৃত্রিম লেন্স বসিয়ে দেওয়া হয়, যা চোখের ভেতরে খুলে যায়। পুরো প্রক্রিয়াটি স্থানীয় অ্যানেস্থেশিয়ায় ১৫-৩০ মিনিটে শেষ হয় এবং রোগী একই দিনে বাড়ি ফিরতে পারেন। প্রয়োজনে Dr. Md. Salahuddin Rahmatullah-এর সাথে যোগাযোগ করুন।
অনেক পুরনো বা শক্ত ছানির ক্ষেত্রে এক্সট্রাক্যাপসুলার ক্যাটারাক্ট এক্সট্রাকশন (ECCE) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যেখানে বড় ছিদ্র করে পুরো লেন্সটি বের করে আনা হয়। এই পদ্ধতিতে সেলাই দিতে হয় এবং সুস্থ হতে বেশি সময় লাগে। ফ্যাকো পদ্ধতিতে সেলাই লাগে না এবং দৃষ্টি দ্রুত ফিরে আসে।
অপারেশনের সময় বসানো কৃত্রিম লেন্সের ধরন রোগীর চাহিদা ও জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করে। নিচের ছকে প্রধান তিন ধরনের লেন্সের তুলনা দেওয়া হলো:
| লেন্সের ধরন | সুবিধা | অসুবিধা | উপযুক্ত রোগী |
|---|---|---|---|
| মনোফোকাল | একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে (সাধারণত দূরের) পরিষ্কার দৃষ্টি দেয়; খরচ কম | কাছের জিনিস দেখতে চশমার প্রয়োজন হতে পারে | যারা দূরের দৃষ্টি বেশি গুরুত্ব দেন এবং চশমা পরতে আপত্তি নেই |
| মাল্টিফোকাল | কাছ ও দূর উভয় দূরত্বে দৃষ্টি দেয়; চশমার প্রয়োজন কমায় | রাতে গাড়ি চালানোর সময় আলোর ঝলকানি বা হ্যালো ইফেক্ট দেখা দিতে পারে; খরচ বেশি | যারা চশমা ছাড়া সব কাজ করতে চান |
| টরিক | দৃষ্টিভঙ্গি (অ্যাস্টিগম্যাটিজম) সংশোধন করে; দূরের দৃষ্টি পরিষ্কার করে | সঠিকভাবে বসানোর জন্য সার্জনের দক্ষতা প্রয়োজন; খরচ বেশি | যাদের ছানির পাশাপাশি দৃষ্টিভঙ্গি আছে |
লেন্স নির্বাচনের আগে চিকিৎসকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা জরুরি। কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের লেন্স সবার জন্য সেরা নয়—প্রতিটি রোগীর চোখের গঠন ও প্রয়োজন ভিন্ন।
অপারেশনের পর প্রথম ২৪ ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চোখে পানি বা সাবান যাতে না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। চিকিৎসকের দেওয়া চোখের ড্রপ নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে—সাধারণত এন্টিবায়োটিক ও স্টেরয়েড ড্রপ কয়েক সপ্তাহ ধরে দিতে হয়। প্রয়োজনে চেম্বারের সময় ও ঠিকানা।
প্রথম সপ্তাহে ভারী কাজ, ঝুঁকে পড়া, হাঁচি বা কাশির সময় চোখে চাপ পড়ে এমন কাজ এড়িয়ে চলতে হবে। চোখে চশমা বা সানগ্লাস ব্যবহার করলে ধুলাবালি থেকে সুরক্ষা মেলে। প্রায় ২-৪ সপ্তাহের মধ্যে দৃষ্টি স্থিতিশীল হয়। এই সময়ের মধ্যে চোখ লাল হওয়া, ব্যথা বা দৃষ্টি হঠাৎ কমে গেলে দেরি না করে Dr. Md. Salahuddin Rahmatullah-এর সাথে যোগাযোগ করুন।
ছানি অপারেশন অত্যন্ত নিরাপদ হলেও যেকোনো অস্ত্রোপচারের মতো কিছু ঝুঁকি থাকে। সম্ভাব্য জটিলতার মধ্যে রয়েছে:
যদি অপারেশনের পর চোখে তীব্র ব্যথা, দৃষ্টি হঠাৎ কমে যাওয়া, চোখ লাল হয়ে ফুলে যাওয়া বা বমি বমি ভাব হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
বাংলাদেশে ছানি অপারেশনের খরচ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে—হাসপাতালের ধরন (সরকারি বনাম বেসরকারি), সার্জনের ফি, লেন্সের প্রকার ও অপারেশন পদ্ধতি। নিচের ছকে আনুমানিক খরচের একটি ধারণা দেওয়া হলো:
| খরচের উপাদান | আনুমানিক মূল্যসীমা (বিডিটি) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| সরকারি হাসপাতাল (মনোফোকাল লেন্স) | ৫,০০০ – ১৫,০০০ টাকা | সরকারি হাসপাতালে ভর্তি ফি ও লেন্সের খরচ কম; অপেক্ষার সময় বেশি হতে পারে |
| বেসরকারি হাসপাতাল (মনোফোকাল লেন্স) | ১৫,০০০ – ৩৫,০০০ টাকা | সার্জন ফি, হাসপাতাল ভর্তি ও লেন্সের খরচ অন্তর্ভুক্ত |
| বেসরকারি হাসপাতাল (মাল্টিফোকাল/টরিক লেন্স) | ৪০,০০০ – ৮০,০০০ টাকা বা তার বেশি | উন্নত লেন্সের দাম বেশি; আইসিইউ বা বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হলে খরচ বাড়ে |
| শুধু সার্জন ফি (বেসরকারি) | ১০,০০০ – ২৫,০০০ টাকা | অভিজ্ঞ সার্জনের ফি বেশি হতে পারে |
মনে রাখবেন, উপরের খরচগুলি আনুমানিক এবং সময় ও স্থানভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। ভর্তি হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল থেকে বিস্তারিত খরচ জেনে নেওয়া ভালো। অনেক বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য বীমা বা প্যাকেজ ডিল থাকতে পারে।
বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি অনেক হাসপাতালেই এই অপারেশন করা হয়। সঠিক সার্জন ও হাসপাতাল বাছাই করতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। চেম্বারের সময় ও ঠিকানা জেনে নিয়ে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।
ছানি অপারেশনে যে কৃত্রিম লেন্স (IOL) বসানো হয়, তা সাধারণত пожизненный স্থায়ী। সময়ের সাথে সাথে এটি নষ্ট হয় না বা আবার ছানি পড়ে না। তবে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ‘পোস্টেরিয়র ক্যাপসুলার অপাসিফিকেশন’ (PCO) নামক একটি অবস্থা দেখা দিতে পারে, যেখানে লেন্সের পেছনের ক্যাপসুলটি ঘোলাটে হয়ে যায়—একে অনেকে ‘সেকেন্ডারি ছানি’ বলে থাকেন। এটি একটি সাধারণ জটিলতা, যার চিকিৎসা সহজ: লেজার দিয়ে ক্যাপসুল পরিষ্কার করে দেওয়া হয়। সম্পূর্ণ অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না। তাই মনে রাখবেন, কৃত্রিম লেন্স পরিবর্তনের আশঙ্কা অত্যন্ত কম।
বেশিরভাগ চক্ষু বিশেষজ্ঞই দুই চোখের অপারেশন আলাদা দিনে করার পরামর্শ দেন। সাধারণত একটি চোখের অপারেশন সম্পূর্ণ সেরে উঠতে ২-৪ সপ্তাহ সময় লাগে, তারপর দ্বিতীয় চোখের অপারেশন করা হয়। একসঙ্গে দুটি চোখের অপারেশন করলে সংক্রমণ বা জটিলতার ঝুঁকি উভয় চোখেই একই সময়ে দেখা দিতে পারে, যা দৃষ্টির জন্য মারাত্মক হতে পারে। বাংলাদেশের বেশিরভাগ ভালো হাসপাতালে এই নীতি অনুসরণ করা হয়। আপনার ডাক্তারের পরামর্শমতো সময় নিন—তা নিরাপদ।
এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার জীবনযাত্রা ও চোখের অবস্থার উপর। মনোফোকাল লেন্স শুধু একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে (দূরের জন্য) পরিষ্কার দৃষ্টি দেয়; কাছের কাজ যেমন পড়ার জন্য আলাদা চশমা প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে মাল্টিফোকাল লেন্স একই সঙ্গে দূর ও কাছের দৃষ্টি দিতে পারে, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে রাতের বেলা আলোর চারপাশে আভা বা গোলাপী রিং দেখতে পারেন। যারা অতিরিক্ত আলোর সংবেদনশীলতা নিয়ে চিন্তিত নন এবং চশমা ছাড়া পড়তে চান, তাদের জন্য মাল্টিফোকাল ভালো। তবে আপনার চোখের কর্নিয়া ও রেটিনার সুস্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের একজন অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিন।
অপারেশনের প্রথম এক মাস অত্যন্ত সাবধানতা প্রয়োজন। সাধারণত প্রথম ২-৩ দিন চোখ বন্ধ রেখে গোসল করা ভালো। চোখে সরাসরি পানি না লাগাতে কমপক্ষে ৭ থেকে ১০ দিন অপেক্ষা করুন। ধুলাবালি ও বাতাস থেকে চোখ বাঁচাতে বাইরে বের হলে সানগ্লাস বা চোখের কভার ব্যবহার করুন। চোখ ঘষা বা চাপ দেওয়া একেবারেই এড়িয়ে চলুন। অপারেশনের পর ডাক্তার যে ড্রপ দেবেন, তা নির্দিষ্ট সময় মতো ব্যবহার করুন। চোখ লাল, ব্যথা বা দৃষ্টি হঠাৎ কমে গেলে অবিলম্বে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
ছানি অপারেশনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো উচ্চ বয়সসীমা নেই। বাংলাদেশে ৮০ বা ৯০ বছর বয়সী রোগীদেরও সফলভাবে অপারেশন করা হচ্ছে। তবে বয়স্কদের শরীরে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ ইত্যাদি থাকতে পারে—যা অপারেশনের সময় ও পরবর্তী সময়ে সামাল দেওয়া জরুরি। বয়স নয়, বরং রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও চোখের সুস্থতা—এই দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। অপারেশনের আগে চিকিৎসক সম্পূর্ণ শারীরিক পরীক্ষা করে ঝুঁকি মূল্যায়ন করবেন। তাই বয়স দেখে ভয় না পেয়ে ডাক্তারের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন।
Stay updated with ophthalmology tips, eye care guides, treatment updates, and insights on cataract, glaucoma, pediatric eye health, and squint care.
আন্তর্জাতিক মানের ORBIS প্রশিক্ষিত চক্ষু সার্জন বলতে বোঝানো হয় সেইসব চিকিৎসককে যারা বিশ্বখ্যাত ORBIS ইন্টারন্যাশনালের অধীনে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এই…
Read More
শিশুদের চোখের বিভিন্ন রোগ ও দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষার উপায় নিয়ে এই নিবন্ধে আলোচনা করা হয়েছে। জন্ম থেকে ৮-১০ বছর বয়স পর্যন্ত…
Read More
খুলনায় ফ্যাকো ও লেজার পদ্ধতিতে ছানি অপারেশন নিয়ে বিস্তারিত—পার্থক্য, খরচ, প্রস্তুতি ও সঠিক চিকিৎসক নির্বাচনের টিপস।
Read More
খুলনায় সেরা শিশু চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও স্ট্রাবিসমাস বা বাঁকা চোখের ডাক্তার খুঁজতে গিয়ে কী কী বিষয় খেয়াল রাখবেন, স্ট্রাবিসমাসের চিকিৎসার…
Read More
চোখ ট্যারা হওয়া (স্ট্রাবিসমাস) শুধু দেখতে খারাপ লাগার বিষয় নয়, এটি দৃষ্টিশক্তির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে শিশুদের স্থায়ী…
Read More
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি একটি নীরব জটিলতা যা দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত করে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে দৃষ্টি…
Read More