আন্তর্জাতিক মানের অরবিস (ORBIS) প্রশিক্ষ প্রাপ্ত চক্ষু সার্জন
আন্তর্জাতিক মানের ORBIS প্রশিক্ষিত চক্ষু সার্জন বলতে বোঝানো হয় সেইসব চিকিৎসককে যারা বিশ্বখ্যাত ORBIS ইন্টারন্যাশনালের অধীনে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এই…
Read MoreWritten by
Dr. Md. Salahuddin Rahmatullah Shaheenবয়স বাড়ার সাথে সাথে চোখে ছানি পড়া বাংলাদেশে খুব সাধারণ একটি সমস্যা। কিন্তু অনেকেই প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে স্বাভাবিক বয়সজনিত দৃষ্টি পরিবর্তন ভেবে ফেলে দেন। অথচ এই লক্ষণগুলো চিনতে পারলে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সম্ভব, যা পরবর্তীতে দৃষ্টি ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই লেখায় আমরা সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দেব কী কী লক্ষণ দেখলে সতর্ক হতে হবে এবং কখন ডাক্তার দেখাতে হবে।
ছানি পড়ার লক্ষণগুলো সাধারণত ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় এবং প্রথম দিকে তেমন গুরুতর মনে না-ও হতে পারে। নিচের টেবিলে প্রতিটি লক্ষণ ও তার বর্ণনা দেওয়া হলো:
| লক্ষণ | কীভাবে বুঝবেন | কখন চিন্তিত হবেন |
|---|---|---|
| ঝাপসা বা মেঘলা দৃষ্টি | দৃষ্টি পরিষ্কার না, যেন কাঁচের ভেতর দিয়ে দেখছেন | যখন পড়তে বা চিনতে অসুবিধা হয় |
| আলোয় ঝলকানি (গ্লেয়ার) | সূর্যের আলো বা গাড়ির হেডলাইটে বেশি সমস্যা | রাতে গাড়ি চালানো কষ্টকর হলে |
| রং বিবর্ণ বা হলুদাভ দেখা | রংগুলো ফ্যাকাশে বা হলুদাভ মনে হয় | রং আলাদা করতে সমস্যা হলে |
| রাতে দেখতে অসুবিধা | অল্প আলোতে দৃষ্টি আরও খারাপ হয় | অন্ধকারে চলাফেরা করতে সমস্যা হলে |
| ঘন ঘন চশমার পাওয়ার পরিবর্তন | নতুন চশমা বানিয়েও দৃষ্টি পরিষ্কার হয় না | বছরে একাধিকবার পাওয়ার পরিবর্তন লাগলে |
এই লক্ষণগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি দেখা দিলেই চোখের ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মনে রাখবেন, ছানি সাধারণত ব্যথাহীন হয়—তাই ব্যথা না থাকলেও উপেক্ষা করবেন না।
চোখের ভেতরে যে প্রাকৃতিক লেন্স থাকে, সেটি সাধারণত পরিষ্কার থাকে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে বা অন্য কোনো কারণে এই লেন্সের প্রোটিন জমাট বেঁধে ঘোলা হয়ে যায়। তখন আলো ঠিকমতো চোখের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না, ফলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়। এই প্রক্রিয়াটি ধীরে ধীরে হয় এবং প্রথম দিকে খালি চোখে বোঝা যায় না। তাই নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো জরুরি।
অনেক সময় ছানির লক্ষণ গ্লুকোমা, রেটিনোপ্যাথি বা সাধারণ চশমার পাওয়ার পরিবর্তনের সাথে মিলে যেতে পারে। তবে কিছু পার্থক্য আছে:
শুধু লক্ষণ দেখে নিজে রোগ নির্ণয় না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়াই নিরাপদ। প্রয়োজনে চোখে ছানি পড়ার প্রাথমিক লক্ষণ নিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।
ছানি পড়ার ঝুঁকি কিছু নির্দিষ্ট কারণে বেড়ে যায়। নিচের বিষয়গুলো থাকলে সতর্ক থাকা দরকার:
বাংলাদেশের গ্রামীণ ও বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা কম থাকায় নিয়মিত চোখ পরীক্ষার গুরুত্ব আরও বেশি।
যদি উপরের লক্ষণগুলোর কোনোটি আপনার মধ্যে দেখা দেয়, তাহলে প্রথম কাজ হলো চোখের ডাক্তারের কাছে যাওয়া। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু ব্যবস্থায় স্বস্তি মিলতে পারে:
তবে মনে রাখবেন, কোনো ঘরোয়া প্রতিকার বা চোখের ড্রপ ছানি সারাতে পারে না। একমাত্র অস্ত্রোপচারই স্থায়ী সমাধান। প্রাথমিক পর্যায়ে নিয়মিত ফলো-আপ করলে অস্ত্রোপচারের সঠিক সময় নির্ধারণ করা সহজ হয়। প্রয়োজনে চেম্বারের সময় ও ঠিকানা দেখুন।
ছানি পড়ার লক্ষণ দেখা দেওয়ার প্রথম থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে নিচের অবস্থাগুলোতে দ্রুত ডাক্তার দেখানো জরুরি:
মনে রাখবেন, ছানি অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ, কিন্তু সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে দৃষ্টি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তাই লক্ষণগুলোকে অবহেলা না করে চেম্বারের সময় দেখে নিন এবং পরামর্শ নিন। আপনি চাইলে সরাসরি যোগাযোগও করতে পারেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে ছানির কারণে ঝাপসা দেখা বা আলোর ঝলকানির সমস্যা কিছুটা কমাতে চিকিৎসক হয়তো চশমার পাওয়ার পরিবর্তন করে দিতে পারেন। তবে এটি ছানি নিরাময় করে না, বরং অস্থায়ীভাবে দৃষ্টি স্বচ্ছ রাখতে সাহায্য করে। ছানি আসলে চোখের লেন্সের একটি স্থায়ী পরিবর্তন, যা চশমা দিয়ে সম্পূর্ণ ঠিক করা সম্ভব নয়। যখন চশমা আর কাজ করে না, তখন অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়।
সাধারণত বয়সজনিত ছানিতে চোখে ব্যথা হয় না। প্রধান সমস্যা থাকে দৃষ্টি নিয়ে—যেমন ঝাপসা দেখা, রাতে গাড়ি চালাতে অসুবিধা, বা রং বিবর্ণ মনে হওয়া। তবে যদি ছানির পাশাপাশি চোখের অন্য কোনো সমস্যা থাকে (যেমন গ্লুকোমা বা ইউভাইটিস), তাহলে ব্যথা হতে পারে। তাই চোখে ব্যথা বা লালভাব থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
ছানি সাধারণত উভয় চোখেই হতে পারে, তবে এক চোখে আগে এবং অন্যটিতে পরে দেখা দিতে পারে। এটি পুরোপুরি প্রতিরোধ করা যায় না, কারণ বয়সজনিত পরিবর্তন দুটি চোখেই ঘটে। তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান না করা, এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে চোখ বাঁচানো ছানি পড়ার গতি কিছুটা ধীর করতে পারে।
বর্তমানে কোনো ওষুধ বা চোখের ড্রপ দিয়ে ছানি নিরাময়ের কার্যকর প্রমাণ নেই। প্রাথমিক পর্যায়ে চশমা, ভালো আলোর ব্যবস্থা, এবং ম্যাগনিফায়ার ব্যবহার করে দৃষ্টি কিছুটা উন্নত রাখা যায়। কিন্তু যখন দৈনন্দিন কাজে (যেমন পড়া, রান্না, বা চলাফেরা) সমস্যা হয়, তখন অস্ত্রোপচারই একমাত্র স্থায়ী সমাধান। অপারেশন করার জন্য তাড়াহুড়ো নেই—চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে সঠিক সময় বেছে নিন।
ডায়াবেটিস ছানি পড়ার ঝুঁকি বাড়ায় এবং সাধারণের তুলনায় কম বয়সেও ছানি দেখা দিতে পারে। ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো, ধূমপান পরিহার করা, এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করলে ছানির প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব। ডায়াবেটিসজনিত ছানির লক্ষণ (যেমন দৃষ্টি ওঠানামা করা) সাধারণ ছানি থেকে ভিন্ন হতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
Stay updated with ophthalmology tips, eye care guides, treatment updates, and insights on cataract, glaucoma, pediatric eye health, and squint care.
আন্তর্জাতিক মানের ORBIS প্রশিক্ষিত চক্ষু সার্জন বলতে বোঝানো হয় সেইসব চিকিৎসককে যারা বিশ্বখ্যাত ORBIS ইন্টারন্যাশনালের অধীনে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এই…
Read More
শিশুদের চোখের বিভিন্ন রোগ ও দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষার উপায় নিয়ে এই নিবন্ধে আলোচনা করা হয়েছে। জন্ম থেকে ৮-১০ বছর বয়স পর্যন্ত…
Read More
খুলনায় ফ্যাকো ও লেজার পদ্ধতিতে ছানি অপারেশন নিয়ে বিস্তারিত—পার্থক্য, খরচ, প্রস্তুতি ও সঠিক চিকিৎসক নির্বাচনের টিপস।
Read More
খুলনায় সেরা শিশু চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও স্ট্রাবিসমাস বা বাঁকা চোখের ডাক্তার খুঁজতে গিয়ে কী কী বিষয় খেয়াল রাখবেন, স্ট্রাবিসমাসের চিকিৎসার…
Read More
চোখ ট্যারা হওয়া (স্ট্রাবিসমাস) শুধু দেখতে খারাপ লাগার বিষয় নয়, এটি দৃষ্টিশক্তির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে শিশুদের স্থায়ী…
Read More
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি একটি নীরব জটিলতা যা দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত করে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে দৃষ্টি…
Read More