আন্তর্জাতিক মানের অরবিস (ORBIS) প্রশিক্ষ প্রাপ্ত চক্ষু সার্জন
আন্তর্জাতিক মানের ORBIS প্রশিক্ষিত চক্ষু সার্জন বলতে বোঝানো হয় সেইসব চিকিৎসককে যারা বিশ্বখ্যাত ORBIS ইন্টারন্যাশনালের অধীনে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এই…
Read MoreWritten by
Dr. Md. Salahuddin Rahmatullah Shaheenখুলনায় বয়সজনিত ছানি সমস্যা খুবই সাধারণ। চোখের লেন্স ঘোলাটে হয়ে দৃষ্টি ঝাপসা হলে তাকে ছানি বলে। অনেকে ভয়ে বা সঠিক তথ্যের অভাবে অপারেশন করতে দেরি করেন। এই নিবন্ধে আমরা ফ্যাকো ও লেজার পদ্ধতি নিয়ে সহজ ভাষায় আলোচনা করব—কীভাবে পার্থক্য বুঝবেন, কার জন্য কোন পদ্ধতি উপযুক্ত, এবং খুলনায় আনুমানিক খরচ কেমন হতে পারে।
ফ্যাকো ইমালসিফিকেশন (Phacoemulsification) বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ছানি অপারেশন পদ্ধতি। এতে একটি অতি সূক্ষ্ম আল্ট্রাসাউন্ড প্রোব ব্যবহার করে চোখের ভেতরের ঘোলাটে লেন্স (ছানি) কে ছোট ছোট টুকরো করে ভেঙে ফেলা হয় এবং তারপর একটি ছোট ছেদ (প্রায় ২.২ মিমি) দিয়ে বের করে আনা হয়। এরপর সেখানে একটি কৃত্রিম লেন্স (IOL) স্থাপন করা হয়।
পুরনো পদ্ধতি (ECCE) তে বড় ছেদ (১০-১২ মিমি) দিতে হতো, সেলাই লাগতো, এবং সুস্থ হতে অনেক বেশি সময় লাগতো। ফ্যাকো পদ্ধতিতে সেলাই লাগে না, রক্তপাত কম হয়, সংক্রমণের ঝুঁকি কম, এবং রোগী খুব দ্রুত স্বাভাবিক কাজে ফিরতে পারেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্থানীয় অ্যানেস্থেশিয়ায় (চোখের ড্রপ বা ইনজেকশন) অপারেশন করা সম্ভব।
লেজার-অ্যাসিস্টেড ছানি সার্জারি (Femtosecond Laser-Assisted Cataract Surgery বা FLACS) ফ্যাকো পদ্ধতির একটি উন্নত সংস্করণ। এখানে একটি কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত ফেমটোসেকেন্ড লেজার ব্যবহার করে অপারেশনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা হয়। যেমন:
এরপরও লেজার পুরো অপারেশন নিজে করে না; ছানি ভাঙা ও বের করার কাজটি এখনও ফ্যাকো প্রোব দিয়েই করতে হয়। লেজার পদ্ধতি বিশেষ করে কিছু জটিল ক্ষেত্রে (যেমন নরম ছানি, কর্নিয়ার এন্ডোথেলিয়াল সমস্যা, বা অত্যন্ত শক্ত ছানি) উপকারী হতে পারে। তবে এটি সব রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় নয় এবং খরচ অনেক বেশি।
| বৈশিষ্ট্য | ফ্যাকো ইমালসিফিকেশন | লেজার-অ্যাসিস্টেড সার্জারি (ফেমটোসেকেন্ড লেজার) |
|---|---|---|
| ছেদের আকার | প্রায় ২.২ মিমি | প্রায় ২.২ মিমি (লেজার দিয়ে তৈরি) |
| প্রক্রিয়া | সার্জন ম্যানুয়ালি ছেদ ও ক্যাপসুলোটমি করেন | লেজার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছেদ ও ক্যাপসুলোটমি করে |
| খরচ (বেসরকারি) | ২৫,০০০-৫০,০০০ টাকা | ৪০,০০০-৭০,০০০ টাকা (অতিরিক্ত) |
| রিকভারি সময় | দ্রুত (১-২ দিনে স্বাভাবিক কাজ) | একই রকম দ্রুত |
| উপযোগী | সাধারণ ছানি রোগীদের জন্য যথেষ্ট | জটিল ছানি, নরম ছানি, কর্নিয়ার সমস্যা |
সাধারণ ছানি রোগীদের জন্য ফ্যাকো পদ্ধতিই যথেষ্ট এবং সবচেয়ে কার্যকর। লেজার পদ্ধতি বেছে নেওয়ার আগে চিকিৎসকের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করা জরুরি। প্রয়োজনে Dr. Md. Salahuddin Rahmatullah-এর সাথে যোগাযোগ করুন।
অপারেশনের আগে: চোখের সম্পূর্ণ পরীক্ষা (বায়োমেট্রি, কর্নিয়ার কার্ভ, ইন্ট্রাওকুলার প্রেসার) করা হয়। চিকিৎসক জানাবেন কখন খাওয়া-দাওয়া বন্ধ রাখতে হবে এবং কোন ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে। অপারেশনের দিন চোখ পরিষ্কার রাখতে বিশেষ ড্রপ দেওয়া হতে পারে।
অপারেশনের পর:
অপারেশনের পর চোখ লাল হওয়া, সামান্য ব্যথা বা ঝাপসা দৃষ্টি স্বাভাবিক। তবে তীব্র ব্যথা, দৃষ্টি হঠাৎ কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত লালচে ভাব দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞ Dr. Md. Salahuddin Rahmatullah-এর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
খুলনার বেসরকারি হাসপাতালে ছানি অপারেশনের খরচ বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। যেমন: সার্জনের ফি, হাসপাতালের ক্যাটাগরি, ইমপ্লান্টের ধরন (মনোফোকাল, মাল্টিফোকাল, টোরিক), এবং কোনো জটিলতা থাকলে আইসিইউ-এর প্রয়োজন। নিচে আনুমানিক খরচের একটি ধারণা দেওয়া হলো: প্রয়োজনে চেম্বারের সময় ও ঠিকানা।
| খরচের উপাদান | আনুমানিক মূল্য পরিসর (BDT) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ফ্যাকো অপারেশন (মনোফোকাল IOL) | ২৫,০০০ – ৪০,০০০ | সাধারণ ইমপ্লান্ট, কম জটিলতা |
| ফ্যাকো অপারেশন (মাল্টিফোকাল/টোরিক IOL) | ৪০,০০০ – ৬০,০০০ | উন্নত ইমপ্লান্ট, চশমা কম লাগে |
| লেজার-অ্যাসিস্টেড (FLACS) অপারেশন | ৪০,০০০ – ৭০,০০০ | লেজার যন্ত্র ব্যবহারের অতিরিক্ত খরচ |
| সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল | ১০,০০০ – ২০,০০০ | খরচ কম, তবে অপেক্ষা তালিকা দীর্ঘ |
মনে রাখবেন: এই মূল্যগুলি আনুমানিক এবং সময় ও প্রতিষ্ঠানভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। চিকিৎসা শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল থেকে বর্তমান খরচ জেনে নিন। স্বাস্থ্য বীমা বা হেলথ কার্ড থাকলে কিছু অংশ কভার হতে পারে।
ছানি পড়ার প্রাথমিক লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:
অনেকের ধারণা ‘ছানি পেকে গেলে’ অপারেশন করতে হয়, যা ভুল। ছানি যত বেশি দিন পড়ে থাকে, অপারেশন তত জটিল হতে পারে এবং চোখের অন্যান্য সমস্যা (যেমন গ্লাকোমা) হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। দৈনন্দিন কাজে সমস্যা হলে বা চোখের ডাক্তার অপারেশন পরামর্শ দিলেই দেরি না করে করিয়ে নেওয়া ভালো।
ছানি অপারেশন না করালে ধীরে ধীরে দৃষ্টি সম্পূর্ণ হারিয়ে যেতে পারে, যা স্থায়ী হতে পারে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে Dr. Md. Salahuddin Rahmatullah-এর সাথে যোগাযোগ করুন।
খুলনায় ছানি অপারেশন করানোর সময় নিম্নলিখিত বিষয়গুলি বিবেচনা করুন:
অপারেশনের আগে চিকিৎসকের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করে সব প্রশ্নের উত্তর জেনে নিন।
অপারেশনের সময় যে কৃত্রিম লেন্স (IOL) বসানো হয়, তার পাওয়ার সাধারণত দূরের দৃষ্টির জন্য ঠিক করা হয়। ফলে অনেক রোগী দূরের কাজে চশমা ছাড়াই চলতে পারেন। তবে কাছের কাজ (পড়া, সেলাই) বা অ্যাস্টিগমেটিজম থাকলে চশমার প্রয়োজন হতে পারে। প্রিমিয়াম লেন্স (মাল্টিফোকাল বা টরিক) ব্যবহার করলে চশমা নির্ভরতা আরও কমে, তবে খরচ বেশি। অপারেশনের আগে চক্ষু বিশেষজ্ঞের সাথে আপনার দৈনন্দিন চাহিদা নিয়ে আলোচনা করে লেন্স নির্বাচন করা ভালো।
দুটো পদ্ধতিই অত্যন্ত নিরাপদ এবং সফলতার হার প্রায় সমান। ফ্যাকো পদ্ধতি বহু বছর ধরে প্রমাণিত, যেখানে হাতে ধরা আল্ট্রাসাউন্ড প্রোব ব্যবহার করে ছানি ভাঙা হয়। লেজার পদ্ধতিতে ফেমটোসেকেন্ড লেজার মেশিন কিছু ধাপ (কর্নিয়ায় কাটা, ক্যাপসুল খোলা, ছানি নরম করা) স্বয়ংক্রিয়ভাবে করে, যা নির্ভুলতা বাড়ায়। তবে লেজার পদ্ধতি সব ধরনের ছানির জন্য প্রয়োজনীয় নয় এবং খরচ বেশি। আপনার চোখের অবস্থা ও বাজেট বুঝে ডাক্তার পরামর্শ দেবেন। কোনো পদ্ধতিই অন্যটির চেয়ে ‘বেশি নিরাপদ’ নয়—দুটোই আধুনিক মানের।
ছানি অপারেশনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমা নেই। বয়স যত বেশি হোক, যদি রোগীর সাধারণ স্বাস্থ্য অপারেশন সহ্য করার মতো হয় এবং চোখের অন্যান্য সমস্যা (যেমন গ্লুকোমা, ম্যাকুলার ডিজেনারেশন) নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে অপারেশন করা সম্ভব। খুলনার বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসকরা বয়স্ক রোগীদের জন্য প্রি-অপারেটিভ মূল্যায়ন (ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিস, হার্টের অবস্থা) করে থাকেন। ৮০ বা ৯০ বছর বয়সেও সফল অপারেশন হচ্ছে। দেরি না করাই ভালো, কারণ অপেক্ষা করলে ছানি শক্ত হয়ে যায় এবং অপারেশন জটিল হতে পারে।
ফ্যাকো বা লেজার পদ্ধতিতে অপারেশন সাধারণত ১৫-২০ মিনিটের হয় এবং রোগী একই দিন বাড়ি ফিরতে পারেন। প্রথম ২৪-৪৮ ঘণ্টা চোখে প্যাচ বা সুরক্ষা কভার থাকে। ২-৩ দিনের মধ্যে হালকা কাজ (বাড়ির ভেতরের কাজ, টিভি দেখা) করা যায়, তবে চোখে পানি না লাগানো, চোখ না ঘষা, এবং ভারী কাজ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ১ সপ্তাহের মধ্যে অধিকাংশ রোগী স্বাভাবিক কাজে ফিরতে পারেন, কিন্তু চোখ পুরোপুরি স্থিতিশীল হতে ৪-৬ সপ্তাহ সময় লাগে। ডাক্তারের দেওয়া চোখের ড্রপ নিয়মিত ব্যবহার করা জরুরি। খুলনার আবহাওয়ায় ধুলাবালি থেকে চোখ বাঁচাতে সানগ্লাস ব্যবহার করা ভালো।
বাংলাদেশে চোখের অপারেশনের জন্য সরকারি হাসপাতালে (যেমন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) ভর্তি হয়ে নামমাত্র খরচে চিকিৎসা নেওয়া যায়, তবে সেখানে ফ্যাকো বা লেজার পদ্ধতি সবসময় পাওয়া যায় না এবং অপেক্ষার সময় দীর্ঘ হতে পারে। বেসরকারি হাসপাতালে ফ্যাকো অপারেশনের খরচ ২৫,০০০-৫০,০০০ টাকা এবং লেজার পদ্ধতিতে ৫০,০০০-৮০,০০০ টাকা বা তার বেশি হতে পারে (লেন্সের ধরন অনুযায়ী)। বর্তমানে কিছু বেসরকারি স্বাস্থ্য বীমা পলিসিতে ছানি অপারেশন কভারেজ আছে, তবে শর্ত ভিন্ন। সরকারি স্বাস্থ্য সহায়তা তহবিল বা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করা যেতে পারে। অপারেশনের আগে হাসপাতালের বিলিং বিভাগ থেকে বিস্তারিত জেনে নেওয়া ভালো।
Stay updated with ophthalmology tips, eye care guides, treatment updates, and insights on cataract, glaucoma, pediatric eye health, and squint care.
আন্তর্জাতিক মানের ORBIS প্রশিক্ষিত চক্ষু সার্জন বলতে বোঝানো হয় সেইসব চিকিৎসককে যারা বিশ্বখ্যাত ORBIS ইন্টারন্যাশনালের অধীনে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এই…
Read More
শিশুদের চোখের বিভিন্ন রোগ ও দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষার উপায় নিয়ে এই নিবন্ধে আলোচনা করা হয়েছে। জন্ম থেকে ৮-১০ বছর বয়স পর্যন্ত…
Read More
খুলনায় ফ্যাকো ও লেজার পদ্ধতিতে ছানি অপারেশন নিয়ে বিস্তারিত—পার্থক্য, খরচ, প্রস্তুতি ও সঠিক চিকিৎসক নির্বাচনের টিপস।
Read More
খুলনায় সেরা শিশু চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও স্ট্রাবিসমাস বা বাঁকা চোখের ডাক্তার খুঁজতে গিয়ে কী কী বিষয় খেয়াল রাখবেন, স্ট্রাবিসমাসের চিকিৎসার…
Read More
চোখ ট্যারা হওয়া (স্ট্রাবিসমাস) শুধু দেখতে খারাপ লাগার বিষয় নয়, এটি দৃষ্টিশক্তির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে শিশুদের স্থায়ী…
Read More
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি একটি নীরব জটিলতা যা দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত করে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে দৃষ্টি…
Read More